1. admin@dainikfatikchhari.com : ForkanMahmud :
যাকাতুল ফিতর টাকা দিয়ে আদায় হলে, কুরবানি না দিয়ে সেই টাকা দান করে দেয়া জায়েয কিনা - দৈনিক ফটিকছড়ি
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

যাকাতুল ফিতর টাকা দিয়ে আদায় হলে, কুরবানি না দিয়ে সেই টাকা দান করে দেয়া জায়েয কিনা

এডিটর-দৈনিক ফটিকছড়ি
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০
  • ৬৩ বার

যাকাতুল ফিতর টাকা দিয়ে আদায় হলে, কুরবানি না দিয়ে সেই টাকা দান করে দেয়া জায়েয কিনা ?

লিখেছেন – শায়েখ সালাউদ্দিন আহমদ মাক্কী

যাকাতুল ফিতর খাদ্যসামগ্রী দিয়ে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম আদায় করেছেন । খুলাফায়ে রাশেদীনও একই নীতিতে ফিতরা আদায় করেছেন । ফিতরা আদায়ের সুন্নাহ ও উত্তম পদ্ধতি এই যে, তা খাদ্যসামগ্রী দিয়ে আদায় হবে । এই মতের পক্ষে জামহুরুল উলামার রায় ।

হানাফী স্কুল অব থটে খাদ্যের মূল্যমান আদায় করলেও ফিতরা আদায় হবে । অসহায় মিসকীনদের মাসলাহার শর্তে এই মতের পক্ষে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া ।

যারা ফিতরা খাদ্যসামগ্রী দিয়েই আদায় করার কথা বলেন, তাদের কেউ কেউ বলতে চান, ফিতরা টাকা দিয়ে আদায় জায়েয হলে কুরবানির পশু না কিনে সেই টাকা দান করে দিলেও তো জায়েয হবার কথা ! যেহেতু সেটা জায়েয নয় তাই অর্থমূল্য দিয়ে ফিতরাও জায়েয নয় ।

তাদের এই যুক্তি বা ক্বিয়াস অনেকগুলো কারণে গ্রহণীয় নয় । বলা যায় তা ক্বিয়াস মায়াল ফারেক্ব ।

এক, কোরবানি অবশ্যই সদাক্বা বা দান নয়। কুরবানীর পশুর গোশত কোরবানী দাতাও খেতে পারেন। সদাক্বাতুল ফিতর কেবল মিসকীনদের হক্ব। কোরবানী ও ফিতরা দুটি আলাদা ধরণের ইবাদাত। আলাদা উদ্দেশ্য এখানে বিদ্যমান।

দুই, সালাফদের কেউই কুরবানী না করে অর্থ দান করে দেয়ার কথা বলেননি। কুরআন ও সুন্নাহর পাশাপাশি সালাফদের বুঝ দ্বীন পালনে অত্যন্ত জরুরী ভূমিকা পালন করে। পক্ষান্তরে, যাকাতুল ফিতর খাদ্যসামগ্রী ছাড়াও অর্থমূল্যের মাধ্যমে আদায়ের পক্ষে সালাফদের মত লক্ষণীয়।

তিন, ফিতরা এক প্রকারের আবশ্যকীয় দান। যেখানে ফিতরা আদায়কারীর কোন হক্ব নেই। পক্ষান্তরে, কুরবানীর পশু দানের অংশ নয়। সেখানে কুরবানী দাতার পূর্ণ হক্ব রয়েছে। কেউ যদি কোরবানীর গোশত প্রয়োজনে নিজেরাই খেলে ফেলে তাতেও কুরবানী আদায় হয়ে যাবে।

চার, , কোরবানিতে পশু জবাই উদ্দেশ্য, অর্থ বিতরণের মাধ্যমে তা হাসিল হয় না। যাকাতুল ফিতরের উদ্দেশ্য হলো, অসহায় মিসকিনদের খাদ্য সরবারহ। যা খাদ্যপণ্য ও অর্থ উভয়ের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। অনেকাংশে অর্থের মাধ্যমে ফিতরা গ্রহীতার চাহিদা অনুপাতে খাদ্য কেনার সুযোগ থাকে।

পাঁচ, দুটি ভিন্ন ধারার দুটি বিষয়কে একটিকে অপরটির সাথে মিলিয়ে ফেলা কেবল বিপরীত মতকে ঘায়েল করাই উদ্দেশ্য। এই ধরণের অসঙ্গতিমূলক ক্বিয়াস আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহর পর তিন ইমামের কেউই করেননি। যদিও তারা আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহর মতের বিপরীতে অবস্থান করেছেন।

শেষকথা হলো, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম যেই যুগে বসবাস করতেন সেই যুগে খাদ্যপণ্য দিয়ে কেনাবেচার সুযোগ ছিল । কেউ চাইলে খেজুর দিয়ে যব কিনতে পারতেন। তখনকার খাদ্যসামগ্রি নগদ মুদ্রার কাজেও ব্যবহৃত হতো। যা বর্তমান এই যুগে অনুপস্থিত। এরকম নানান মাসলাহার দিক বিবেচনায়, অসহায় মিসকিনদের স্বার্থেই ইমামদের নানান মত উঠে এসেছে। এই মতামতকে ভুল প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠা সালাফদের নীতি বহির্ভুত কাজ। তাদের মতামত পছন্দ না হলে আমলের দরকার নেই। তবে তাদের এই অবদানকে ভুল প্রমাণে আদা জল খেয়ে লাগা অবশ্যই অযাচিত, গর্হিত মন্দ কর্ম ।

আপনিও শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরি আরো খবর...
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazafatikcha54
//graizoah.com/afu.php?zoneid=3460431