1. admin@dainikfatikchhari.com : ForkanMahmud :
মাদিয়ান শহর ও আদ জাতির ধ্বংসাবশেষঃ - দৈনিক ফটিকছড়ি
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ০৪:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হীরার সন্ধানে ওরা চারজন-আদনান হোসাইন ফটিকছড়ি ভূজপুর ইউনিয়নে ২০ পরিবার কে সেলাই মেশিন দিলো বাংলাদেশ এহইয়াউচ্ছুন্নাহ ফাউন্ডেশন বঙ্গবন্ধুর ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ফটিকছড়ি গ্রাম পুলিশদের মাঝে ইউনিফর্ম বিতরণ আজ থেকে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু ফটিকছড়ি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালিত যে মিনার অন্ধকার পথকে আলোর বিচ্ছুরণ ছড়িয়ে আলোকিত করে হীরার সন্ধানে ওরা চারজন -আদনান হোসাইন সব হারিয়ে নি:স্ব ফটিকছড়ির ১৮ প্রবাসী ব্যবসায়ী শেখ কামালের জন্মদিনে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন এর বৃক্ষরোপণ

মাদিয়ান শহর ও আদ জাতির ধ্বংসাবশেষঃ

এডিটর-দৈনিক ফটিকছড়ি
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০
  • ৭৯ বার

মাদিয়ান শহর ও আদ জাতির ধ্বংসাবশেষঃ

শোয়াইব (আ.)-এর জাতিঃ

অর্থনৈতিক অনাচারে বিধ্বস্ত মাদিয়ান শহর
আল্লাহর আজাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রধান ছয়টি প্রাচীন জাতির মধ্যে অন্যতম জাতি হলো ‘আহলে মাদিয়ান’।

তাদের সম্পর্কে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মাদিয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শোয়াইবকে আমি পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই। আর ওজন ও পরিমাপে কম দিয়ো না। আমি তো দেখছি তোমরা সমৃদ্ধিশালী (এর পরও তোমরা ওজনে কম দিলে), আমি তোমাদের জন্য এক সর্বগ্রাসী দিনের আজাবের আশঙ্কা করছি।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৮৪)

‘মাদিয়ান’ লুত সাগরের সন্নিকটে সিরিয়া ও হিজাজের সীমান্তবর্তী একটি জনপদের নাম। এটি এখনো পূর্ব জর্দানের সামুদ্রিক বন্দর মোআনের অদূরে বিদ্যমান।

কুফরি করা ছাড়াও এ জনপদের লোকেরা ওজন ও মাপে কম দিত। অন্যের সম্পদ লুটপাট করত। অন্যায় পথে জনগণের সম্পদ ভক্ষণ করত। এই শহরের গোড়াপত্তন করেছিলেন মাদিয়ান ইবনে ইবরাহিম (আ.)। তিনি মুসা (আ.)-এর শ্বশুর ছিলেন। লুত (আ.)-এর জাতির ধ্বংসের অনতিকাল পরে মাদিয়ানবাসীদের প্রতি তিনি প্রেরিত হয়েছেন। চমৎকার বাগ্মিতার কারণে তিনি ‘খতিবুল আম্বিয়া’ বা নবীদের মধ্যে সেরা বাগ্মী নামে খ্যাত ছিলেন। মাদিয়ানবাসীকে পবিত্র কোরআনে কোথাও কোথাও ‘আসহাবুল আইকা’ বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো জঙ্গলের বাসিন্দা। এটি বলার কারণ হলো, এই অবাধ্য জনগোষ্ঠী প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে নিজেদের বসতি ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। মহান আল্লাহ সেখানেই তাদের ধ্বংস করে দেন। কেউ কেউ বলেন, ওই জঙ্গলে ‘আইকা’ নামের একটি গাছকে তারা পূজা করত। এ কারণে তাদের ‘আসহাবুল আইকা’ বলা হয়।

শোয়াইব (আ.) অর্থনৈতিক সততার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। এর আলোকে বোঝা যায়, আল্লাহর ইবাদত বলতে শুধু নামাজ, রোজা বা দোয়া-দরুদই বোঝায় না, মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে আল্লাহর বিধান মেনে চলাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য নবী-রাসুলের উম্মতের ওপর আজাব এসেছে আল্লাহকে অস্বীকার ও আল্লাহর নবীদের অবাধ্য হওয়ার কারণে। কিন্তু শোয়াইব (আ.)-এর জাতির ওপর আজাব এসেছে বিশেষভাবে অর্থনৈতিক অসততার কারণে। তাই অর্থনৈতিক অসততা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।
—————————♦—————————-

হুদ (আ.)-এর জাতিঃ

নিমিষেই বিনাশ আদ জাতির অট্টালিকা
আদ জাতির সুউচ্চ প্রাসাদ ও টাওয়ার ছিল। কিন্তু সেগুলোও তাদের প্রকৃতির প্রতিশোধ থেকে রক্ষা করতে পারেনি। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি দেখোনি, তোমার প্রতিপালক আদ জাতির ইরাম গোত্রের প্রতি কী (আচরণ) করেছেন—যারা ছিল সুউচ্চ প্রাসাদের অধিকারী, যার সমতুল্য (প্রাসাদ) কোনো দেশে নির্মিত হয়নি।’ (সুরা : ফাজর, আয়াত : ৬-৮)

শক্তি ও ক্ষমতার বাহাদুরি তাদের হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে ফেলে। অনায়াসেই তারা বলে বেড়াত, ‘(এ দুনিয়ায়) আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে আছে?’ কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে তারাও উপলব্ধি করতে পারে যে আল্লাহর হুকুমের সামনে, প্রকৃতির প্রতিশোধের কাছে মানুষ বড় অসহায়। আত্ম-অহমিকা আদ জাতিকে পরকালের ব্যাপারে উদাসীন করে তোলে।

আদ জাতির অমার্জনীয় হঠকারিতার ফলে প্রাথমিক আজাব হিসেবে উপর্যুপরি তিন বছর বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকে। তাদের শস্যক্ষেত শুষ্ক বালুকাময় মরুভূমিতে পরিণত হয়। বাগবাগিচা জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও তারা শিরক ও মূর্তিপূজা ত্যাগ করেনি। তারা বাধ্য হয়ে আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করে। তখন আসমানে সাদা, কালো ও লাল মেঘ দেখা দেয়। একপর্যায়ে গায়েবি আওয়াজ আসে যে তোমরা কোন ধরনের মেঘ পছন্দ করো? লোকেরা কালো মেঘ কামনা করে। তখন কালো মেঘ নেমে আসে। আদ জাতি তাকে স্বাগত জানিয়ে বলল, ‘এটি আমাদের বৃষ্টি দেবে।’ জবাবে তাদের নবী হুদ (আ.) বলেন, ‘বরং এটি সেই বস্তু, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চেয়েছিলে। এটি এমন বায়ু, যার মধ্যে রয়েছে মর্মন্তুদ আজাব।’ পরদিন ভোরে আল্লাহর চূড়ান্ত আজাব নেমে আসে। সাত রাত ও আট দিন ধরে অনবরত ঝড়-তুফান বইতে থাকে। মেঘের বিকট গর্জন ও বজ্রপাতে বাড়িঘর ধসে যায়। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে গাছপালা উপড়ে যায়। মানুষ ও জীবজন্তু শূন্যে উত্থিত হয়ে সজোরে জমিনে পতিত হয়।
বিস্তারিত সুরা : হাক্কা আয়াত : ৬-৮।

আপনিও শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরি আরো খবর...
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazafatikcha54
//graizoah.com/afu.php?zoneid=3460431