1. amiewan62firm.gasbin.comamiewan99@firm.gasbin.com : amiewan0131405 :
  2. antoniowester67pay.bochip.comantoniowester99@pay.bochip.com : antoniowester6 :
  3. ashton_hobson@mstreetyoga.com : ashtonhobson10 :
  4. blainecummins45firm.gasbin.comblainecummins9@firm.gasbin.com : blainecummins8 :
  5. carmelamerritt72case.jusuk.comcarmelamerritt35@case.jusuk.com : carmelai55 :
  6. crystleordonez17pay.bochip.comcrystleordonez58@pay.bochip.com : crystleuvj :
  7. delorisburleson51wash.meupd.comdelorisburleson84@wash.meupd.com : delorisburleson :
  8. elsiefavela21wash.meupd.comelsiefavela64@wash.meupd.com : elsiefavela77 :
  9. fidelconnely20wash.meupd.comfidelconnely48@wash.meupd.com : fidelconnely963 :
  10. admin@dainikfatikchhari.com : ForkanMahmud :
  11. glendalilly33pay.bochip.comglendalilly60@pay.bochip.com : glendalilly :
  12. jacquiebraine96pay.bochip.comjacquiebraine58@pay.bochip.com : jacquieo06 :
  13. kerstinmunro34case.jusuk.comkerstinmunro39@case.jusuk.com : kerstinmunro12 :
  14. mindyweis13pay.bochip.commindyweis85@pay.bochip.com : mindyweis0233 :
  15. ronniesun84pay.bochip.comronniesun42@pay.bochip.com : ronniesun52 :
  16. rorydixson17pay.bochip.comrorydixson55@pay.bochip.com : rorydixson2 :
  17. silkekellogg27pay.bochip.comsilkekellogg17@pay.bochip.com : silkekellogg033 :
বাবার কাঁধে ছেলের লাশ- আরুহান রানা - দৈনিক ফটিকছড়ি
রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পাইন্দং তোরাবিয়া রাজা মরিয়ম কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন হেয়াকো বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি- বাবলু, সম্পাদক-হানিফ ওমানে ড্রাইভিং লাইসেন্সই পাওয়ার দু’দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় ফটিকছড়ি যুবকের মৃত্যু প্রত্যাশিত স্বপ্ন- সাজ্জাদ উদ্দীন রাহাত নাজিরহাটে সংবর্ধিত হলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির সদস্য সাবরিনা চৌধুরী সুন্দরপুর বড়ছিলোনীয়া কর্তৃক আয়োজিত, ফুটবল টুর্ণামেন্ট’র ফাইনাল খেলা সম্পন্ন নানুপুর সংঘরাজ শীলালঙ্কার ও রাজগুরু আর্যমিত্র ফাউন্ডেশন স্মৃতি বৃত্তি পরিক্ষা-২০২১ অনুষ্ঠিত ফটিকছড়িতে মশার রাজত্ব বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ ফাউন্ডেশন নাজিরহাট পৌর কমিটি অনুমোদন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হস্তক্ষেপ চেয়ে ফটিকছড়ি ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির মানববন্ধন

বাবার কাঁধে ছেলের লাশ- আরুহান রানা

এডিটর-দৈনিক ফটিকছড়ি
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২০৯ বার

বাবার কাঁধে ছেলের লাশ। যখন কাঁধে নিয়েছিল তখনও রহিম মিয়া বিশ্বাস করতে পারছে না।
কাঁধে থাকা লাশটি তার একমাত্র ছেলে সাকিবের।
কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে নতুন এক গন্তব্যে। সে গন্তব্য থেকে আজ অবধি কেউ ফিরে আসেনি। সাকিবের মৃত্যু অপ্রস্তুত ভাবে হয়েছিল। হঠাৎ এমন মৃত্যু চারদিক সতর্কবার্তা বয়ে এনেছিল।
সাকিব কিছুদিন পর পর বাবার কাছে আবদার করতে থাকে। কিন্তু বাবার স্বার্থ ছিল না সাকিবের আবদার পূরণ করার।
সাকিবের বাবা মাসে যে বেতন পেয়ে থাকে তা দিয়ে তাদের সংসারে একতৃতীয়াংশ ব্যয় হয়ে যায়। সাকিবের ছোট বোন লামিয়ার বিয়ের জন্য তার বাবা অল্প করে করে ব্যাংকে সঞ্চয় করতে লাগল।
তার বাবার চাকরির অবসর নেওয়ার সময়টা খুব দ্রুত ঘনিয়ে এসেছে।
আরো চিন্তা বেড়ে যায় যে চাকরি করছে সেটা কোনো সরকারি নয়। যদি সরকারি তালিকাভুক্ত থাকতো অবসর সময় একটা মোটা অঙ্কের টাকা পেতে।
সব মিলিয়ে অনেক টা মানসিক চাপে ছিল।
সাকিবের তার বাবার এই পরিস্থিতি বোঝার একটি পর্যাপ্ত বয়স হয়েছে।যে বয়সে পরিবারকে নিয়ে তার ভাবা উচিত। কিন্তু সাকিব ব্যতিক্রম, ছোট ছেলের মতো আবদার করেছে মা-বাবার কাছে।
কত বুঝিয়েছে তার মা কিন্তু এসব কথা তার কাছে বিরক্তকর মনে হয়। সে তার মাকে বলে দেয় এসব কিছু বাদ দিয়ে আমার জন্মদিনে আগে যেন মোটরসাইকেল কিনে দেন।
মা বাবা এবং বোন সহ তাকে বুঝাবার স্বার্থ নেই।
সাকিবকে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়া পর্যন্ত তার আচার-আচরণে অদ্ভুত ভাবে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
এমন আচরণ দেখে মা তার বাবা কে বলতে লাগলো – আমাদের ছেলে-মেয়ে দুইজন। তাদের হাসিখুশিতে রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমরা এতো সব কার জন্য করছি? সব তো ওদের জন্যই করছি।
দুইজন চুপ করে বসে আছে।
কিছুক্ষণ পর রহিম মিয়া দীর্ঘ একটি শ্বাস ত্যাগ করে। সাকিবের মায়ের উদ্দেশ্যে বলতে লাগল,
দেখো সাকিবের মা আমার চাকরি টা এই বছর পর চলে যাবে। আমি মাস শেষে যে বেতন পাই। সেখান থেকে লামিয়ার জন্য অল্প অল্প করে সঞ্চয় করেছি মেয়েটার বিয়ের জন্য।কিন্ত আমি যদি সাকিব কে একটা মোটরসাইকেল কিনে দি তাহলে মেয়েটার ভবিষ্যৎ …
এই বলে থেমে গেলেন রহিম মিয়া।
ভবিষ্যৎ কি হবে এসব নিয়ে ছেলেটার কোনো মাথা ব্যথা নাই। ভবিষ্যতের কথা বাদ দিয়ে লামিয়ার জন্য যে টাকা সঞ্চয় করেছেন সব টাকা ব্যাংক থেকে তুলে তারে মোটরসাইকেল কিনে দিবেন।
এছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না। সে একদিন বুঝবে এবং সেদিন এই পরিবার নিয়ে সে ভাববে কিভাবে সে সংসারের হাল ধরবে সব মিলে একটু সময় লাগবে।
সাকিবের মা কথা বলা শেষ করে একটু মৃদু হাসল।
যেন এই হাসি কোনো দুঃখ তার জীবনে নেই। ছেলে মেয়ের সুখ মানে তাদের সুখ।
সকাল এগারো টা বাজে সাকিব কে কল দিলো তার বাবা। কিন্তু সাকিব বাবার ফোন নাম্বার দেখে আর রিসিভ করল না। আবার কল দিলো তার বাবা। বার বার কল করছে দেখে সাকিব রিসিভ করলো।
-হ্যালো বাবা,,
-জি বাপজান কই তুই?
-আমি কলেজ গেইট বন্ধুদের সাথে বসে আছি। কেন?
-আচ্ছা শুন তুই ব্যাংকের সামনে যে মোটরসাইকেলের শো-রুম আছে। সেখানে আয়।
সাকিব চুপ হয়ে আছে।আর ভাবছে জেগে জেগে কি আমি স্বপ্ন দেখছি।
আবার ওপাশ থেকে তার বাবা বললো তোর জন্য আজকে মোটরসাইকেল কিনে দিবো।
সাকিব এক মূহুর্ত সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলনা।
ব্যাংকের সামনে আল আমিন ভাইয়ার শো-রুমের সামনে চলে গেলেন।
রাস্তা যত টা পথ অতিক্রম করেছে সে তত টা পথ ভাবছে মোটরসাইকেল নিয়ে কোথায় কোথায় যাবে। আজ তার জন্য একটা বিশেষ দিন।
কিছুক্ষণ পর তার পছন্দ অনুযায়ী একটি গাড়ি নিয়েছে। গাড়ির টাকা দেওয়ার পর সব ডকুমেন্ট বুঝে নিল তার বাবা।
মোটরসাইকেল পিছনে তার বাবা কে বসিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
বাড়িতে পৌঁছা মাত্র তার মাকে ডাকতে লাগল দেখো মা। আব্বু আমারে শেষ পর্যন্ত মোটরসাইকেল কিনে দিলো।
ছেলের চোখে মুখে আনন্দ দেখে মা-ও খুব খুশি।
সব বন্ধু বান্ধবের কাছে ইতিমধ্যে খবর চলে গেল। সাকিব মোটরসাইকেল কিনেছে এই কথা।
কয় দিন এভাবে যাচ্ছিল বন্ধু বান্ধবদের সাথে ঘুরাঘুরি, এদিক সেদিক যাওয়া আসা।

একদিন তারা ঠিক করলো চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার একটা দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করবে, মোটরসাইকেল করে। সব বন্ধু দিন তারিখ ঠিক করল।আগামীকাল সকাল সাতটা বাজে তারা রাওনা দিবে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে।
সবাই রওনা দিয়েছে তাদের সাথে সাকিবও ছিল।
কিন্তু সাকিব তার মা বাবাকে কোথায় যাচ্ছে সেটা বলে যায় নি।

যদি তার মা-বাবাকে বলতো তাহলে যেতে দিতো না।
সেজন্য কাউকে না জানিয়ে সে কক্সবাজার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।সাকিব ও তার বন্ধুবান্ধব সবাই একটা সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল।
লোহাগড়া উপজেলা এসে সবাই থামল। সবাই মুখ হাত পরিষ্কার করে নাস্তার টেবিলে বসল। সাকিব আফসোস করতেছে কেন যে সে হেলম্যাট আনতে ভুলে গেলো।আরো কত দূর বাকি পথ যাবে কি করে।
সবার নাস্তা শেষ করে করে আবার রওনা দেয় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। প্রতিটি উপজেলা বিদায় দিয়ে নতুন উপজেলার সাইনবোর্ড স্বাগত জানাচ্ছে। চকরিয়া প্রবেশ তাদের আর অল্প পথ বাকি ছিল কক্সবাজার পৌঁছোতে। সাকি বন্ধুবান্ধব থেকে আলাদা হয়ে যায় হঠাৎ করে। কিন্তু সাকিবের বন্ধুবান্ধব তা খেয়াল করেনি। তারা সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। সাকিবকে অতিক্রম করে অনেক দূর চলে গেছে তার বন্ধুরা। এবার সাকিব মোটরসাইকেল থামিয়ে বন্ধুদের কল দিলো, ওপাশ থেকে শাহিন রিসিভ করল গাড়ি থামিয়ে।
-হ্যালো সাকিব,
-শাহিন তোরা কই এখন?
-আমরা সবাই চকরিয়া উপজেলা চিরিঙ্গা বর্তমান। তুই কই?
-আমি অনেক দূরে আছি তুদের থেকে। তোরা সবাই অপেক্ষা কর আমি আসতেছি।
-আচ্ছা ঠিক আছে বলে সবাই গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাহাঁটি করতে লাগল। সাকিব না আসা পর্যন্ত।
কিন্তু সাকিবের জন্য অপেক্ষা করতে করতে অনেকে বিরক্তবোধ করছে।
প্রায় ১ঘন্টা হয়ে গেল সাকিবের আসার কোনো সাড়াশব্দ নেই বললেই চলে।

তারপর শাহিন বলে আচ্ছা আমি আরেক কল দিয়ে দেখবো। মুমিন বলে, তাড়াতাড়ি দে কত দূর আসছে জিজ্ঞাস কর। সাকিব যে আমাদের দলের বাহিরে চলে গেলো কেউ খেয়াল করিসনি?
কেউ উত্তর দিলো না। কারণ তখন সাকিবের উপর সবার রাগ ছিল।কেন এতোক্ষণ করছে?
শাহিন কল দিলো কিন্তু কল রিসিভ করছে না।
আবার দিলো রিসিভ করলো না। তখন শাহিন স্থির হয়ে থাকতে পারলো না।
নাকি সাকিবের কোনো বিপদ হলো?
বার বার কল দিচ্ছে কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না।
শেষ পর্যন্ত চল্লিশ কিংবা পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী একজন কল রিসিভ করে বলে,
-হ্যালো, কে বলছেন?
শাহিন অন্য লোকের কন্ঠ শুনে বুঝতে পেরেছে সাকিবের কিছু একটা হয়েছে?
-আপনি কে বলছেন?সাকিবের মোবাইল আপনার কাছে কেন? অগোছালো ভাবে বলতে লাগল শাহিন মোবাইলে।
-আসলে দেখেন ছেলেটা কিছুক্ষণ আগে এক্সিডেন্ট হয়েছে।মোবাইল টা আমার কাছে। অবস্থা খুব খারাপ বর্তমান তাকে চকরিয়া জম জম মেডিকেল নেওয়া হচ্ছে।

-শাহিন এই কথা শুনার পর স্থির হয়ে থাকতে পারল না।
চিৎকার করে বলতে লাগল কোন জায়গা এক্সিডেন্ট করেছে?
-চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা এলাকায় এ এক্সিডেন্ট ঘটে। এক দূরপাল্লার ট্রাকের সাথে মোটর সাইকেলটির সংঘর্ষ হয়।
মোটরসাইকেলের অবস্থার চেয়ে ছেলেটার অবস্থা খারাপ। অনেক রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। আপনারা মেডিকেলে চলে আসুন।
সবাই গাড়ি ঘুরিয়ে মেডিকেল চলে যায়। কিন্তু কর্তব্যরত ডাক্তার সাকিব কে মৃত ঘোষাণা দিলো।
বন্ধুরা সবাই শোকাহত। সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ তার মৃত্যু কথা ছড়িয়ে যায়।
তার মা-বাবার কাছে যখন সাকিবের মৃত্যুর খবর আসে তখন বিশ্বাস করতে পারছিলো না। তাদের সাকিব তাদের মাঝে আর নেই। কিছুক্ষণ পর পর তার মা অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। সাকিবের প্রাণহীন দেহখানা একটি লাশবাহী গাড়ি করে আসলো।
সাকিবের প্রাণহীন দেহ দেখে অনেকে চোখের অশ্রু আর ধরে রাখতে পারলো না।

গল্পঃমৃত্যু স্বপ্ন
লেখকঃ আরুহান রানা

আপনিও শেয়ার করুন।

One thought on "বাবার কাঁধে ছেলের লাশ- আরুহান রানা"

  1. আরফাতুল আলম রাব্বি says:

    বাহ্।অসাধারণ ভাইয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরি আরো খবর...

ads

আপনার বিজ্ঞপন এখানে দিন

আপনার বিজ্ঞপন এখানে দিন

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazafatikcha54