শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নতপাইন্দং আমতলে আরজেএসের প্রথম ডে-ফুটসাল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখা যাবে না: ডিসি জাহিদ ৫০০ বছরের কবরস্থানের ওপর দিয়ে সড়ক নয়, বিকল্প জায়গায় চান এলাকাবাসী দ্বিতীয় প্রান্তিকেও মুনাফার শক্তিশালী ধারা অব্যাহত রেখেছে রবি সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই খুঁটির ক্রসআর্ম ভেঙে জমিতে পড়ে বিদ্যুতের তার, প্রাণ গেল দুই কৃষকের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আইনজীবী সমিতির আত্মপ্রকাশ ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠন : স্বপ্নভঙ্গ নাকি জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন? ফেসবুকে মানহানি ও লাঞ্ছনার হুমকির অভিযোগে জামায়াতের প্রার্থীর আইনজীবীর থানায় জিডি দুই দশকের প্রবাসজীবনের অবসান, ওমানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল ফটিকছড়ির এনামের

দেশের নানা প্রান্ত থেকে কেন নানুপুর ওবাইদিয়ায় ছুটে আসেন ইতিকাফকারীরা?

দৈনিক ফটিকছড়ি / ৫১৬ ভিউ
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজানের শেষ দশক এলেই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর এলাকায় তৈরি হয় এক ভিন্নধর্মী আধ্যাত্মিক পরিবেশ। দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ছুটে আসেন এখানে ইতিকাফ পালনের জন্য। উপজেলার নানুপুর জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া মাদ্রাসা মসজিদে বসে দেশের অন্যতম বড় ইতিকাফের আসর, যেখানে চলতি বছর প্রায় ২ হাজার ৭০০ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের বড় ইতিকাফ আয়োজনগুলোর একটি। মসজিদের তিনতলা জুড়ে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন ইতিকাফকারীরা। জাগতিক ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে তারা দিন-রাত অতিবাহিত করছেন নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও বিভিন্ন ইবাদতে।

ইতিকাফকারীদের সেবায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে। তারা মুসল্লিদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে সহায়তা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে মুসল্লিদের কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজেও সহযোগিতা করছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিকাফে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের জন্য বিনা মূল্যে সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে তাদের মাঝে সেহরি ও ইফতার পরিবেশন করা হয়।

ইতিকাফ চলাকালে মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ধর্মীয় দিকনির্দেশনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সহিহ কোরআন তিলাওয়াত, নামাজের বিধান, ইসলামী আদর্শ ও জিকির-আজকার বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ইতিকাফকারীরা জানান, বিজ্ঞ আলেমদের তত্ত্বাবধানে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক পরিবেশে তারা সুশৃঙ্খলভাবে ইতিকাফ পালন করছেন। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকায় প্রতি বছরই এখানে ইতিকাফকারীর সংখ্যা বাড়ছে।

নানুপুর জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা এখানে এসে ইতিকাফ পালন করছেন। ইতিকাফকারীদের সেবা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

তিনি বলেন, ইতিকাফকারীদের ইবাদত নির্বিঘ্ন করতে থাকা, সেহরি-ইফতারসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন বাদ আসর ইতিকাফকারীদের উদ্দেশে ঈমান ও আমল বিষয়ে বয়ান দেওয়া হয়।

প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে নানুপুর এলাকায় এক ধরনের আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা দেশের বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আকৃষ্ট করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ
Theme Created By ThemesDealer.Com