নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে চুরির অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে ডেকে দুই সহোদরকে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ভাই নিহত এবং অপর ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারমাসিয়া খন্দকার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. নুরুল আবছার (৪৫) ওই এলাকার নুর নবীর ছেলে। গুরুতর আহত তাঁর ভাই মো. রাসেল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নুরুল আবছার ও রাসেলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে গ্রাম্য সালিশের কথা বলে তাঁদের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ৪০–৫০ জন যুবক। সালিশ চলাকালে তাঁদের চোর আখ্যা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে দুই ভাই গুরুতর আহত হন।
পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের খন্দকার পাড়া মাদরাসার সামনে আনা হয়। সেখানে রাসেলকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং আবছারকে মুমূর্ষু অবস্থায় মাদরাসার বারান্দায় ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
সেখানে রাত ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুল আবছারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাসেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে দৈনিক ফটিকছড়ি-কে বলেন, স্থানীয় এক মাদ্রাসার মাঠে নিহত আবছার ও তাঁর ভাই রাসেলকে এলাকার নানা চুরির ঘটনা নিয়ে একটি সালিশি বৈঠক বসে। সেখানে একপর্যায়ে তাঁদের দুই ভাইকে ঘুষি–লাথিসহ নানা ভাবে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে আবছারকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের আরেক ভাই বাদী হয়ে ৪০–৫০ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত আবছারের বিরুদ্ধে থানায় কোনো চুরির অভিযোগ ছিল না, তবে তাঁর ভাই রাসেলের নামে একটি অভিযোগ ছিল। ঘটনার পর সার্কেল অফিসারসহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।