ফোরকান মাহমুদ, ওমান
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রায় দুই দশক আগে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মোহাম্মদ এনাম। প্রবাসের কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তুলেছিলেন নিজের এসি ও ফ্রিজ সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা। কিন্তু জীবিকার সেই সংগ্রামই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তার প্রাণ।
সোমবার (৭ জুলাই) ওমানের সোহার অঞ্চলে একটি দোকানে বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান এনাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুতের তীব্র শকে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত এনামের বাড়ি ফটিকছড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাদিবাপের বাড়ি এলাকায়। তিনি মরহুম জগির আহমদের ছেলে। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি।
এনামের প্রতিবেশী ও ওমানপ্রবাসী পিয়ারুল ইসলাম জানান, পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রায় ২০ বছর আগে ওমানে গিয়েছিলেন এনাম। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে সোহারে নিজের একটি এসি ও ফ্রিজ সার্ভিসিং ও বিক্রয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ একজন মানুষ।
নিহতের প্রতিবেশী ও স্থানীয় যুবদল নেতা বেলাল বিন নুর বলেন, “এনাম অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। পরিবারের সুখের জন্য দীর্ঘদিন প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং দ্রুত মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।”
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সোহারের একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনা হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।