মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মৃত্যুফাঁদে পরিণত ইটভাটার গর্ত, দুই শিশুর মৃত্যুর দায় এড়াবে কে চুরির অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে দুই সহোদরকে গণপিটুনি:  একজনের মৃত্যু, অন্যজন হাসপাতালে  জ্বর-কাশিতে কাবু নুরুল আমিন, ফেসবুকে জানালেন অসুস্থতার কথা বাবা ভান্ডারীর ওরশ: নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফটিকছড়িতে প্রস্তুতি সভা হাইদচকিয়া গ্রামে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও কুরআন বিতরণ সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের পথে ফটিকছড়ি গড়তে চান সরোয়ার আলমগীর দেশের নানা প্রান্ত থেকে কেন নানুপুর ওবাইদিয়ায় ছুটে আসেন ইতিকাফকারীরা? চা বাগান ও গ্যাস সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চান সরওয়ার আলমগীর চলে গেলেন সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বশর হাটহাজারীতে তেল মজুদ রাখার দায়ে পেট্রোল পাম্পকে জরিমানা

মৃত্যুফাঁদে পরিণত ইটভাটার গর্ত, দুই শিশুর মৃত্যুর দায় এড়াবে কে

দৈনিক ফটিকছড়ি / ১৮২ ভিউ
আপডেট সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সীরাত মঞ্জুর 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হারুয়ালছগিতে হট ভাটায় নেওয়া ২০ ফুট মাটির গর্তের পানিতে দুই শিশুর মৃত্যু আবারও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—অবহেলা, অনিয়ম আর দায়িত্বহীনতার মাশুল কতটা নির্মম হতে পারে। মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে খেলতে খেলতে পানিভর্তি গর্তে পড়ে তাদের মৃত্যু—এ দৃশ্য কেবল একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই গভীর বেদনার।

প্রশ্নটি সহজ, কিন্তু উত্তরটি অস্বস্তিকর—এই মৃত্যুর দায় কার? ইটভাটার জন্য যত্রতত্র মাটি কেটে ফেলে রাখা গভীর গর্ত কি কেবল একটি ‘দুর্ঘটনার’ ক্ষেত্র তৈরি করে, নাকি এটি পরিকল্পিত অবহেলারই ফল?

দেশে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। কোথায়, কীভাবে মাটি কাটা যাবে, পরিবেশ ও জননিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনাও আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব নিয়ম প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ইটভাটা মালিকরা অনেক ক্ষেত্রেই কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়েই মাটি খনন করেন। ফলে এমন গর্তগুলো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে, যা শিশুদের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।

ফটিকছড়ির ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ—কোনো বেড়া নেই, সতর্কতামূলক চিহ্ন নেই, নেই কোনো নজরদারি। অথচ এসব ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত জনবসতির একেবারে কাছেই। প্রশ্ন হলো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এতদিন কী করছিল?
এ ধরনের ঘটনায় আরেকটি পরিচিত চিত্র দেখা যায়—দুর্ঘটনার পর তৎপরতা, কিন্তু প্রতিরোধে উদাসীনতা। ঘটনার আগে যদি কার্যকর তদারকি থাকত, তবে হয়তো এই দুই শিশুর প্রাণহানি এড়ানো যেত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অভিযোগ না থাকলে পদক্ষেপ নয়—এই অবস্থান বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ? যখন একটি ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম প্রকাশ্যে চলতে থাকে, তখন প্রশাসনের নিজস্ব উদ্যোগে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কি নেই?

এখন প্রয়োজন দায় নির্ধারণ এবং প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ। অবৈধ বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে মাটি খনন বন্ধ করতে হবে। যেসব গর্ত ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত ভরাট করা অথবা নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

দুই শিশুর এই মৃত্যু যেন আরেকটি সংখ্যা হয়ে না থাকে। বরং এটি হোক একটি সতর্কবার্তা—যাতে আমরা বুঝতে পারি, উন্নয়ন বা ব্যবসার নামে কোনো অব্যবস্থাপনা মানুষের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করলে তা মেনে নেওয়া যায় না। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের নয়, রাষ্ট্র ও সমাজেরও দায়িত্ব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ
Theme Created By ThemesDealer.Com