আজগর আলী, নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গ্যাসসংকট ও ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষার অজুহাতে সিএনজি অটোরিকশার বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে বাড়ানো ভাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও কমানো হচ্ছে না। নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ্যে না থাকায় চালকেরা নিজেদের মতো করে ভাড়া আদায় করছেন বলেও অভিযোগ তাঁদের।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, নাজিরহাট মেডিকেলের সামনে থেকে বিবিরহাট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলাচলকারী চট্টগ্রাম-থ-১২-০৮৪৪ নম্বরের একটি ফোরস্ট্রোক সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
এ সড়কের নিয়মিত যাত্রী ওমর ফারুক বলেন, বিভিন্ন সময় ঈদের বোনাস, মাইজভান্ডার দরবার শরিফের ওরশ ও গ্যাসসংকটের অজুহাতে ভাড়া বাড়ানো হয়। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ভাড়া আর কমানো হয় না। এ নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই বাগ্বিতণ্ডা হয়।
বিবিরহাট সিএনজি স্টেশনের লাইনম্যান নেজাম উদ্দিন বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া চালকেরা তাঁদের স্টেশনের নন। ঝংকার মোড় এলাকার চালক সরোয়ারও একই দাবি করেন।
তবে সিএনজি মালিকপক্ষের প্রতিনিধি জাহিদ ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গ্যাস নিতে ভোগান্তির কারণে এ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
যদিও একাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আগের মতো দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
নাজিরহাট–ফটিকছড়ি সড়কের ভাড়ার সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন রুটের ভাড়ার তুলনা করলে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা যায়।
স্থানীয় যাত্রীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ অক্সিজেন–হাটহাজারী পথে জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা। আবার প্রায় ২২ থেকে ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ হাটহাজারী–ফটিকছড়ি পথে ভাড়া ৬০ টাকা।
অথচ মাত্র সাত কিলোমিটার দীর্ঘ নাজিরহাট–ফটিকছড়ি পথে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা।
পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রায় ৪৫ টাকার জ্বালানিতে ৭০ কিলোমিটার চলতে পারে। সে হিসাবে প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৬৪ পয়সা।
অন্যদিকে এলপিজিচালিত গাড়িতে ৭২ টাকা খরচে প্রায় ২৫ কিলোমিটার চলার হিসাব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২ টাকা ৮৮ পয়সা।
জ্বালানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সিএনজিচালিত গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি খরচ প্রায় ৬৪ পয়সা। সেখানে নাজিরহাট–ফটিকছড়ি সাত কিলোমিটার পথে ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়ায় কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া দাঁড়ায় প্রায় ৪ টাকা ২৯ পয়সা। অর্থাৎ শুধু জ্বালানি খরচের তুলনায় ভাড়া প্রায় ৬ দশমিক ৭ গুণ।
এলপিজিচালিত গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি খরচ প্রায় ২ টাকা ৮৮ পয়সা হলেও একই পথে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৪ টাকা ২৯ পয়সা।
তবে পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভাড়ার সঙ্গে শুধু জ্বালানি খরচ নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের মজুরি ও মালিকের অন্যান্য ব্যয়ও যুক্ত থাকে। কিন্তু নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ্যে না থাকায় যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয় যাত্রীদের দাবি, নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে হবে এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ভাড়ার তালিকা টানাতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাসসংকট বা অন্য কোনো অজুহাতে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, এ পথে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে তাঁর কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। তবে ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে এবং এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ আবদুল আজিজ বলেন, এ সড়কে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।