সীরাত, নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে হওয়া ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আবাদযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, বন্যার কারণে চাষাবাদ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও বাড়তি পরিশ্রমের মাধ্যমে কৃষকেরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। তাই কোনো আবাদযোগ্য জমি ফেলে রাখা যাবে না।
শনিবার (১ আগস্ট) ফটিকছড়ি উপজেলার পেলাগাজী দিঘির মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের মধ্যে সবজির বীজ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি উপকারভোগীদের হাতে সহায়তা তুলে দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের যতটুকু জমি আছে, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। কোনো জমি যেন পড়ে না থাকে। জমি অবশ্যই চাষের আওতায় আনতে হবে। সেখানে ফসল, সবজি কিংবা ফুল-কিছু না কিছু আবাদ করতে হবে।
তিনি বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা যাতে দ্রুত চাষাবাদ শুরু করতে পারেন, সে জন্য সবজির বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণ করা বীজ দ্রুত বপন ও সঠিকভাবে পরিচর্যা করারও পরামর্শ দেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, যে সময়ে ফসল চাষ করার কথা ছিল, বন্যার কারণে সেটি কিছুটা পিছিয়ে গেছে। তবে কৃষকেরা আন্তরিকতা ও একটু বেশি পরিশ্রম করলে সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি ও মৎস্য খাত পুনরুদ্ধারে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনা খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। এখন কৃষি উৎপাদন দ্রুত পুনরুদ্ধারে বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতিতে কৃষকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষক, তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক ও প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। কৃষকদের দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে পারলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
ফটিকছড়িকে সবজি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উপজেলার উৎপাদিত শাকসবজি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। তাই এ অঞ্চলে সবজি উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ জন কৃষকের মধ্যে শসা, চালকুমড়া, লাউ, কলমি শাক ও বেগুনের বীজ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৭০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি লবণ এবং ২৫০ গ্রাম করে হলুদ, মরিচসহ প্রয়োজনীয় মসলা বিতরণ করা হয়।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ, উপকারভোগী কৃষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।