সিরাত, নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটির কাঠের ক্রসআর্ম ভেঙে বিদ্যুতের তার ধানক্ষেতে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা বিদ্যুৎ বিভাগকে জানালেও দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হওয়ায় দীর্ঘ সময় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরাচাঁন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মোহাম্মদ হাশেম (৫০), পূর্ব ভূজপুরের মীরখিল কারিগরপাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে এবং মোহাম্মদ ইউনুস (৩৫), একই এলাকার পশ্চিমপাড়ার মৃত মাহবুল আলমের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাশেমের পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ইউনুসের পরিবারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই কৃষক ধানের চারা রোপণের কাজ করছিলেন। এ সময় পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির কাঠের ক্রসআর্মের একপাশ ভেঙে বিদ্যুতের তার কাদাপানিতে পড়ে যায়। এতে জমির পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। বিষয়টি বুঝতে না পেরে তারা পানিতে নামলে ঘটনাস্থলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
তাদের অভিযোগর, খবর পাওয়ার পর তিনি থানা পুলিশ, বিদ্যুৎ বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসে একাধিকবার ফোন করলেও দ্রুত সাড়া মেলেনি। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হওয়ায় স্থানীয়রাও ভয়ে তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যেতে পারেননি। এতে দীর্ঘ সময় তারা বিদ্যুতায়িত অবস্থায় পড়ে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত মারা যান।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম খান বলেন, দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন ফটিকছড়ি জোনাল অফিসের এজিএম আশিক মাহমুদ সুমন দৈনিক ফটিকছড়ি-কে বলেন, এ ঘটনায় তাদের কোনো গাফিলতি ছিল না। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রিপ করে লাইনটি বন্ধ হয়ে যায়। মূলত খুঁটির ওপর থাকা কাঠের ক্রসআর্মের একপাশ ভেঙে সেটি টানা তারের ওপর পড়ে। বৃষ্টির পানির কারণে বিদ্যুৎ মাটিতেও ছড়িয়ে পড়ে। এখানকার লাইন অনেক পুরোনো। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কাঠের ক্রসআর্মগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এ ঘটনায় মীরখিল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত দুই কৃষকের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।