নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল থাকবে কি না—সে বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিতে পারেন হাইকোর্ট। তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটের ওপর আদেশের দিন থাকায় নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা।
নেতাকর্মীরা বলছেন, আজকের আদালতের আদেশের ওপর নির্ভর করছে পুরো নির্বাচনী প্রস্তুতির গতিপথ। আদেশ নেতিবাচক হলে নতুন করে কৌশল নির্ধারণে পড়তে হবে দলকে, আর ইতিবাচক হলে জোরেশোরে মাঠে নামার প্রস্তুতি নেবেন তাঁরা।
গত মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটির শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
আদালতে সরওয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও মো. রুহুল কুদ্দুস। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী নিজাম উদ্দিন। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন আদালত।
আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ইউসুফ আলম মাসুদ সাংবাদিকদের জানান, “সরওয়ার আলমগীর কোনোভাবেই ঋণখেলাপি নন। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তিনি ব্যাংকের সব পাওনা যথাসময়ে পরিশোধ করেছেন। আজ আদালত ব্যাংকের বক্তব্য শুনে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবেন।”
তিনি আরও বলেন, রিটে যে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তা বাস্তবতা ও আইনগত দিক থেকে টেকসই নয় বলেই আমরা আদালতে তুলে ধরেছি।
এদিকে আদালতের আদেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেক নেতাকর্মী হাইকোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এবং আদালতের রায়ের পরই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের কথা ভাবছেন দলীয় নীতিনির্ধারকেরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের আদেশ শুধু সরওয়ার আলমগীরের ব্যক্তিগত প্রার্থিতার প্রশ্নেই নয়, বরং চট্টগ্রাম-২ আসনের সামগ্রিক নির্বাচনী সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।