চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ঐতিহাসিক কাজী পেলাগাজীর দিঘীর পূর্বপাড়ে অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো কবরস্থানের ওপর দিয়ে সড়ক প্রশস্তকরণের চেষ্টার অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন পেলাগাজীর শাহ (রহ.) জামে মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় এলাকাবাসী। কবরস্থান অক্ষত রেখে সড়কের পূর্ব পাশ দিয়ে বিকল্পভাবে রাস্তা সম্প্রসারণের দাবি জানান তারা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) জুমার নামাজের পরপরই চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাইন্দং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী পেলাগাজীর দিঘীর পূর্বপাড় এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা, মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী কবরস্থান রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক এই কবরস্থানের ওপর দিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, কবরস্থানের জমি অধিগ্রহণ না করেই সেখানে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চলছে। অথচ সড়কের পূর্ব পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় অধিগ্রহণের মাধ্যমে সহজেই সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব।
এসময় বক্তব্য দেন স্থানীয় সমাজকর্মী সাইফুদ্দিন সুমন, মো. ইমরান, নাঈম উদ্দিন, খতিব মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা কামাল মোস্তফা, সরওয়ার, মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম, ইউপি সদস্য আতাউল হক মুন্সি, আলী হোসেন ও ব্যবসায়ী মহিন উদ্দিন।
সাইফুদ্দিন সুমন বলেন, আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই। কিন্তু উন্নয়নের নামে শত শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে জড়িত কবরস্থান ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাস্তার পূর্ব পাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও কেন কবরস্থানের ওপর দিয়ে সড়ক নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা আমরা জানতে চাই। কবরস্থান সংরক্ষণ করে বিকল্প পথে সড়ক প্রশস্ত করতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম বলেন, এই সড়কের পূর্ব পাশে অধিগ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। কিন্তু পশ্চিম পাশে ঐতিহাসিক কাজী পেলাগাজীর দিঘীর পূর্বপাড়ে প্রায় পাঁচশ বছরেরও বেশি পুরোনো অসংখ্য কবর রয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, কবরস্থানের ওপর দিয়ে রাস্তা না নিয়ে পূর্ব পাশে অধিগ্রহণযোগ্য জায়গা দিয়ে সড়কটি প্রশস্ত করা হোক।
ইউপি সদস্য আতাউল হক মুন্সি বলেন, কাজী পেলাগাজীর দিঘীটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য বহন করছে। রাস্তার পশ্চিম পাশে কবরস্থান থাকায় সেখানে অধিগ্রহণের সুযোগ নেই। কিন্তু পূর্ব পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। তাই সেখান থেকেই রাস্তা প্রশস্ত করা উচিত। সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।
ব্যবসায়ী মহি উদ্দিন বলেন, এটি শুধু একটি কবরস্থান নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতির অংশ। উন্নয়নের নামে এই কবরস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করা হলে এলাকাবাসী তা মেনে নেবে না। আমরা কবরস্থান সংরক্ষণ করে বিকল্প পথে সড়ক নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
বক্তারা অবিলম্বে কবরস্থানের ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণ বা প্রশস্তকরণের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ, কবরস্থানের সীমানা সংরক্ষণ এবং বিকল্প পথে সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চট্টগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্ উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। যেহেতু কবরস্থানের বিষয়টি এসেছে, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখব। সওজের জায়গার বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করার সুযোগ নেই। তারপরও যদি স্থানীয়দের আপত্তি থাকে, তাহলে সার্ভেয়ার দিয়ে জায়গাটি পুনরায় যাচাই করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বর্তমানে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের হাটহাজারী থেকে ফটিকছড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ বাস্তবায়ন করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন।