ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িকে ‘জেলা’ ঘোষণা করে অন্তত পাঁচটি উপজেলায় রূপান্তর করলে তৃণমুলে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী এই দীর্ঘ সময়ে চরমভাবে অবহেলিত ফটিকছড়ির উন্নয়নে কোন নেতাই দেখার মতো কিংবা বলার মতো উন্নয়ন করেন নি। এটি আমাদের নেতাদের অযোগ্যতা আর অদূরদর্শীতা। দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই উপজেলা পাঁচটি হওয়ার সকল যোগ্যতা বিদ্যমান। এতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণের পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা অবাধে মিলবে।
হেফাজতে ইসলামের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শেখ হুসাইন মুহাম্মদ শাহজাহান ইসলামাবাদী উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
শনিবার (৫ জুলাই) রাতে তাঁর বাসভবনে ‘হুসাইন মুহাম্মদ শাহজাহান সমর্থক ফোরাম’ আয়োজিত “উন্নয়ন বঞ্চিত দেশের অন্যতম বৃহত্তম উপজেলা সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-০২ (ফটিকছড়ি)- এর উন্নয়ন পরিকল্পনা” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ শাহজাহান বলেন, ১৯৭১ সালের পর থেকে ফটিকছড়িতে চাহিত কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। আয়তন ও জনসংখ্যার বিবেচনায় সরকারি বরাদ্ধ, অপরিকল্পিত কাজ এবং জন-প্রতিনিধিদের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ফটিকছড়ি এখনও অন্যান্য জেলা ও উপজেলার তুলনায় পিছিয়ে। চা-বাগান, রাবার-বাগান, সামাজিক বনায়ন, কৃষিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই উপজেলাকে আধুনিক উপজেলায় রুপান্তর করতে হবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর এই উপজেলাকে ভেঙে ৫টি উপজেলায় রুপান্তর করে ঢেলে সাজাতে হবে। তবেই উন্নয়নে আমুল পরিবর্তন আসবে।
সামাজিক সংগঠন এহ্ইয়াউস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ শাহজাহান আরোও বলেন, আসছে সংসদ নির্বাচনে লড়তে চাই। ইসলামী গরানার সবদল জোটবদ্ধ হয়ে পাশে থাকবে। বিজয়ী হলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ খাতে ভূমিকা রাখবো। তরুণদের অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে ফেরাতে ফটিকছড়ির দক্ষিণ, মধ্যম ও উত্তরাঞ্চলে খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে দল ও ধর্মীয় মুরব্বিদের অনুমতি নিয়ে পার্থী হবো। নির্বাচনে বিজয়ী হলে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, একটি করে সেলাই প্রশিক্ষণ সেন্টার এবং একটি করে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
সভায় জামিয়া ইসলামিয়া ভূজপুরের মহাপরিচালক ও হেফাজত নেতা মাওলানা জুনায়েদ বিন জালাল, নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা এরশাদ বিন জালাল, মাওলানা এম. নিজাম উদ্দিন, মাওলানা হাবিবুল্লাহ দিদু, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, তারেকুল ইসলাম, হাফেজ সেলিম মাহমুদ, হাফেজ রহমত উল্লাহ, মাওলানা হেলাল উদ্দিন, মাওলানা ওসমান এবং মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
হেফাজত অধ্যুষিত উপজেলায় আসছে নির্বাচনে এই নেতা চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপের অংশ হিসেবেই মূলত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে বসেন এবং ভোজ শেষে তার আশার কথা জানান।