নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের সাকর আলি তালুকদার বাড়ির চেইঙ্গার ব্রিজ এলাকায় ‘মব’ সৃষ্টি করে পিটিয়ে স্কুলছাত্রকে হত্যার ঘটনায় আহত রাহাত ও মানিক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চট্টগ্রাম মেডিকেলের পঞ্চম তলায় অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি মুহাম্মদ গুরুতর আহত রাহাত ডান হাত ও বাঁ পায়ের একাধিক হাড় ভেঙেছে। একদিন পর জ্ঞান ফিরলেও ভালো করে কথা বলতে পারছেনা রাহাত।
রাহতের মা রোজি বেগম সন্তানের পাশে বসে দীর্ঘ অপেক্ষায় অপলক তাকিয়ে আছে কখন সন্তান রাহাত চোখ খুলবে। পাশে দাড়িয়ে থাকা মামা সুমনের কথা বলে জানা যায় এখনো রক্ত দিতে হচ্ছে, স্যালইন দিয়ে চলছে মুখে কিছু খেতে পারছেনা কথা ভালোভাবে বলতে পারছেনা ।
নিচতলার ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডের বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে কিশোর মুহাম্মদ মানিক। মানিকের ভাই রাশেদ এর সাথে কথা বলে জানাযায়, ” মানিক এর অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছে বার বার। বাম পায়ে রক্ত চলাচল কম হওয়াতে পা ফুলে যাচ্ছে।
দুই কিশোরের খোঁজ নিতে কথা হয় তাদের স্বজনদের সঙ্গে। স্বজনেরা বলছেন, ঘটনার পর ট্রমা থেকে বের হতে পারেনি তারা। কথা বলছে না দুজনের কেউই।
মানিকের ভাই রাশের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ”
এভাবে কেন তাদের মারা হলো, মুলত সেদিন রাতে মাহিন, রাহাত ও আমার ভাই মানিক মিলে বেড়াতে গেছিল।মাহিনকে তাঁর বাড়িতে নামিয়ে দিতে গেছিল। সেখানে আমার ভাইকে চুরি করতে গেছে বলে ব্রীজের সাথে বেঁধে মারধর করেছে। আমার ভাইকে কেন এত নির্মম ভাবে মেরেছে এখনো বুঝে উঠতে পারছিনা না ।
মাহিন ও তাঁর দুই বন্ধু শুক্রবার রাত ৪ টার দিকে সিএনজি অটোরিকশা যোগে বাড়ি ফিরে। বাড়ির অদুরে সড়কে সেই সিএনজি চালক ও দুই বন্ধু রাহাত ও মানিককে বসিয়ে রেখে বাড়িতে বাবার কাছে ভাড়া আনতে যান মাহিন। মাহিনের বাড়ি থেকে আসতে একটু দেরি হলে গাড়ি থেকে নেমে একটু হাঁটেন তাঁর দুই বন্ধু। এসময় আগে থেকে উৎপেঁতে থাকা স্থানীয় কয়েকজন যুবক ও মধ্যবয়সীরা মিলে তাদেরকে চোর চোর বলে ধাওয়া করতে থাকে।
তারা ধাওয়ার একপর্যায়ে প্রাণভয়ে পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে উঠে যায়। এ সময় ওই ভবনে চুরির অভিযোগ তোলেন আক্রমণকারীরা। এরপর তাদের ধরে এনে চেইঙ্গার ব্রিজের ওপর বেঁধে ‘মব সৃষ্টি’ করে সকাল পর্যন্ত বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। খবর পেয়ে মাহিনের বাবা মুহাম্মদ লোকমান ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে মাহিন ঘটনাস্থলে মারা যায়। মৃত্যুর আগে ওই কিশোরের বাবা সেখানে ছুটে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এমনকি মাহিন মৃত্যুর আগে পানি পান করতে চাইলেও তাকে তা দিতে বাধা দেওয়া হয়।
ঘটনায় নিহতের মা খদিজা বেগম (৩৮) বাদী হয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত এমন সুনির্দিষ্ট ৫ জন ও অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে আসামী করে ফটিকছড়ি থানায় মামলা করে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমদ বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের মা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটকে করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি নোমান (২২) ও আজাদ (২৩) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে ফারাজ উদ্দিনের নাম উঠে আসে। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রোববার তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
ছবিঃ রাহতের মা রোজি বেগম সন্তানের পাশে বসে দীর্ঘ অপেক্ষায়.