ফটিকছড়ি প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধুরুং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও ফসলি জমির মাটি পরিবহনে সড়কের ক্ষতি এবং তা দ্রুত সংস্কারের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) উপজেলার বেড়াজালি-শ্বেতকুয়া এলাকায় এ মানববন্ধনে স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।
এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম চৌধুরী। ইঞ্জিনিয়ার মো. মহসীন বিএসসির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আবদুল জলিল, মো. বাদশা আলম, ব্যাংকার মো. ওয়াহিদ চৌধুরী, পাইন্দং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. বাবর, নারী নেত্রী শাহানা আক্তার, মনা খাতুন ও মনি আক্তারসহ অন্যান্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধুরুং নদীর বেড়াজালি ও শ্বেতকুয়া এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু তোলেন স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি-জামায়াত দলীয় নামধারী ব্যবসায়ী। তারা প্রতিদিন শত শত ড্রাম ট্রাক, জীপ বালু ও কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে ওই সড়ক ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে সড়কটি এক প্রকার চলাচলের অযাগ্য হয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। বিশেষ করে রোগীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমের আগেই এসব সড়ক সংস্কার করা না হলে মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।
অপরদিকে, ফসলি জমির টপসয়েল কাটার ফলে সাধারণ কৃষকের আবাদি জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আসছে বর্ষা মৌসুমে ধুরুং নদী ভাঙনে বসতভিটা হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও দলের নাম বিক্রি করে চলা নেতাকর্মী এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে ক্ষতিগ্রস্তদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকীও দেওয়া হচ্ছে। তারা অবিলম্বে সড়কে এসব বালু-মাটির গাড়ি চলাচলে বিধিনিষেধ এবং দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জোর দাবী জানান।
পরে এলাকাবাসী বালু উত্তোলন ও ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্থ বেড়াজালী-শ্বেতকুয়া সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবী জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘সড়কটির বিষয়ে ইতিমধ্যে অনেক অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। আজকের মানববন্ধনের মাধ্যেমে স্থানীয়রা তাদের দাবী আরো নিশ্চিত করেছেন। আমি বিষয়টি দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’