ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম জেলা আমীর আলাউদ্দিন সিকদার বলেছেন, “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে একটি ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে জামায়াতের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই ভালবাসার আলোকে দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। পরিবার পরিজনকে ইসলামের আলোকে আদর্শবান সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে দেশ জাতি ও সমাজ উপকৃত হবে।”
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফটিকছড়ির দাঁতমারা শান্তিরহাট মিশকাতুন্নবী দাখিল মাদ্রাসায় ভূজপুর থানা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, “আমাদের উপর সীমাহীন জুলুম নিপীড়ন চালানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করেই দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কাজ করছি। তাই আল্লাহ পাক আমাদেরকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে জামায়াতের রুকনদেরকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। পতিত ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশপ্রেমিক জনতাকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ফ্যাসিস্ট শক্তির পতন ঘটাতে যে স্বপ্ন নিয়ে আমাদের ছাত্র সমাজ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে, সেই বৈষম্যহীন সমাজ ও বেকারত্বহীন দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুর জব্বার বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মানবতার কল্যাণ সাধন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। প্রমাণিত হয়েছে জুলুম-নিপীড়ন, হামলা-মামলা, ফাঁসির রশি আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যপূরণ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি, পারবেও না কোনদিন। দ্বীন কায়েমই আমাদের একমাত্র জীবনদ্দেশ্য। তাই আমাদেরকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ঈমানের ওপর অবিচল থেকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে গতিশীল ও বেগবান করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন, জেলা পেশাজীবি বিভাগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।
থানা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন থানা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আহমদ হোছাইন, থানা সেক্রেটারী মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।